লোকসভা ভোটের পরই তৃণমূল আরাবুলকে সভাপতি পদ থেকে সরালো

বৃহস্পতিবার হঠাৎ ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে জরুরি বৈঠক ডাকেন ক্যানিং পূর্ব তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

Arabul Islam

Arabul Islam

আরাবুল ইসলাম: ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে ভাঙড়ে অভূতপূর্ব হিংসার ছবি দেখা গিয়েছিল। কত প্রাণহানি হয়েছিল। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। গত বছর ১২ অগস্ট তিনি সভাপতির শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

লোকসভা ভোট পর্ব শেষ হতেই তৃণমূল ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে আরাবুল ইসলামকে সরিয়ে দিল। দীর্ঘ চার মাস ধরে জেলবন্দি ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর, বৃহস্পতিবার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে জরুরি বৈঠক ডাকেন ক্যানিং পূর্ব তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। সেই বৈঠকে স্থানীয় নেতৃত্বকে সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। শওকত বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি না থাকায় কাজকর্মে সমস্যা হচ্ছে। তাই তাঁর বদলে সহ-সভাপতি সোনালি বাছাড়কে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সহ-সভাপতির দায়িত্ব তিনি সামলাবেন। সূত্রের খবর, জেল থেকে মুক্তি পেলেও আরাবুলকে পদে ফেরানো হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি শওকত।

আরো পড়ুন: আবার শুরু হল কৃষি যন্ত্রপাতি আবেদন ২০২৪-২৫, কিভাবে আবেদন করবেন

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে, ভাঙড়ে একটি হিংসামূলক ঘটনা ঘটে। রক্তপাত হয়, জীবন হারানো হয়। সে নির্বাচনে আরাবুল ইসলাম জয়ী হন এবং তারা ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান হয়ে উঠেন। তারা গত বছরের ১২ অগস্টে চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেন। সব কিছু ঠিকঠাক চলছে তবে ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা পুলিশ একটি পুরানো মামলায় আরাবুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তারপর থেকে তিনি স্বাভাবিক কাজে সমস্যা হচ্ছে সমিতির কাজে অংশগ্রহণে। তাই এমন পরিস্থিতিতে দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমনটাই খবর প্রশাসন সূত্রে।

একটি সূত্রের প্রকাশ দ্বারা জানা গেছে যে, তৃণমূল সংস্থান আরাবুল ইসলামকে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বের করেছে। এই সম্পর্কে তার স্ত্রী জাহানারা বিবি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা চলছে। এর মধ্যে একটি মামলাতে আরাবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তিনি চার মাস জেলে ছিলেন। এ ঘটনার পরে আরাবুলকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে।

২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট লোকসভা আসনে ভাঙড়ে বেশি ভোট পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। এইয়ের পর ভাঙড় বামফ্রন্টের জয়ে সোনার কিছু ক্ষমতা সাবেক বিধায়ক আরাবুল ইসলামের। আরাবুলের সম্পর্কে তখন থেকে জনপ্রিয়তা ও সমস্যা দুইই তার কাছে দারুণ উপস্থিতি করেছিল। সোনার প্রাপ্তি নিয়ে তার গোষ্ঠী ও আমলে বৃদ্ধি পেয়েছিলেন। কিন্তু আরাবুলের রাজনৈতিক পথে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক প্রতিকূলতাও অবলম্বন করছে। জেলায় সিপিএমের নেতৃত্বের সঙ্গে তার গোষ্ঠীর মধ্যে ঘটছে সম্পত্তি ও ক্ষমতার জটিল প্রতিস্থাপনা। এই অস্থির পরিস্থিতিতে আরাবুল ইসলামের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতি অজানা। কিন্তু এতে মনে হচ্ছে, ভাঙড়ের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আরাবুল ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।